জাম খাওয়ার ১০টি উপকারিতা – ২০২৩

জাম খাওয়ার ১০টি উপকারিতা – ২০২৩:  জাম একটি সুস্বাদু ফল। সবাই এই ফল খেতে ভালোবাসে। জাম আজ বাংলাদেশে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে । জুন, জুলাই মাসের দিকে এই ফল বাজারে পাওয়া যায়।

কারণ এ সময় জাম পেকে যায় । জাম রক্ত ​​গঠনে বিশেষ ভূমিকা পালন করে। এছাড়া জাম ফলের অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে। চলুন বন্ধুরা, জাম খাওয়ার উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নেই।

জাম খাওয়ার নিয়ম

জাম খাওয়ার নিয়ম জানা আমাদের সবার জন্য জরুরী । কারণ জাম ফল অনিয়মিত সেবনে শরীরে নানা রোগ বাড়তে পারে । তাহলে চলুন জেনে নিই জাম খাওয়ার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত ।

  • সাধারণত জাম ফল যে কোনো সময় যেকোনো উপায়ে খাওয়া যায় । তবে দুপুরের খাবার না খেয়ে জাম ফল খাওয়া উচিত নয় । আপনি চাইলে রাতে ঘুমানোর আগে জাম ফল খেতে পারেন । এতে শরীরের অনেক উপকার হবে ।
  • জাম যে ডায়াবেটিস কমাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে তা আমরা আগেই জেনেছি । কারণ জাম রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । তাই ডায়াবেটিস থাকলে বেশি করে জাম খান ।
  • জামে প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান রয়েছে । যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । তাই প্রতিদিন জাম খাওয়ার চেষ্টা করুন ।
  • পেট ভরা থাকলে জাম খাবেন না । এতে হজমের সমস্যা হতে পারে । কমপক্ষে ১-২ ঘন্টা পরে খান ।

জামের পুষ্টিগুণ

জাম আকারে ছোট হলেও এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ । যা আমাদের শরীরের জন্য খুবই উপকারী । এছাড়া জামের ঔষধি গুণ রয়েছে যা শরীরের বিভিন্ন রোগ সারাতে সক্ষম । তো চলুন জেনে নিই প্রতিটি ১০০ গ্রাম জামের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে ।

চিনি ১৫.৫৬ মিলিগ্রাম, প্রোটিন ০.৭২মিলিগ্রাম, ভিটামিন (এ৩) lU, ভিটামিন (বি৬) ০.০৩৮ মিলিগ্রাম, থায়ামিন (ভিটামিন বি১) ০.০৬মিলিগ্রাম, রাইবোফ্লাবিন (ভিটামিন বি২) ০.০১২ মিলিগ্রাম, নিয়াসিন (ভিটামিন বি৩) ০.০২৫মিলিগ্রাম, ভিটামিন সি ০.১৯ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ০.৩৪ মিলিগ্রাম, ম্যাগনেসিয়াম ১৫ মিলিগ্রাম, আয়রন ০.১৯ মিলিগ্রাম, ফসফরাস ১৭ মিলিগ্রাম, সোডিয়াম ১৪ মিলিগ্রাম, পটাসিয়াম ৭৯ মিলিগ্রাম, পানি ৮৩ গ্রাম, ইত্যাদি।

জাম খাওয়ার উপকারিতা

জাম খাওয়ার ১০টি উপকারিতা - ২০২৩

  • রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
  • ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে
  • ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়
  • জন্ডিস ও রক্তস্বল্পতা নিরাময় করে
  • সংক্রমণ দূর করে
  • হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে
  • হাড়ের শক্তি বাড়ায়
  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে
  • হজমে সাহায্য করে
  • দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে

১) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়

আমরা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ডাক্তারের পরামর্শ নিই । কিন্তু আপনি হয়তো জানেন না যে জাম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে । কারণ জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি যা যেকোনো রোগ সারাতে সক্ষম ।

২) ক্যান্সার প্রতিরোধে সাহায্য করে

ক্যানসার থেকে মুক্তি পেতে পারে জাম ফল । গবেষকদের মতে, ক্যান্সার প্রতিরোধে জামের বিশেষ ভূমিকা রয়েছে । কারণ জামে রয়েছে কেমো প্রোটেকটিভ নামক উপাদান । যা ফ্রি র‌্যাডিক্যাল ধ্বংস করতে সাহায্য করে । তাই ক্যান্সারের ঝুঁকি কমাতে আপনি প্রতিদিন ১০০-২০০ গ্রাম জাম ফল খেতে পারেন ।

৩) ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমায়

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে হলে জাম ফল খেতে পারেন । জামের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে । ফলে ডায়াবেটিস কমানো যায়।  একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, ডায়াবেটিস কমাতে জামের বীজ খুবই কার্যকরী ওষুধ । জামের বীজ অ্যান্টি-ডায়াবেটিক গুণে ভরপুর । যা রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে পারে ।

৪) জন্ডিস ও রক্তস্বল্পতা নিরাময় করে

জন্ডিস এবং রক্তশূন্যতা সারাতে জাম খুবই কার্যকরী । বিশেষ করে রক্তশূন্যতার সমস্যা হলে আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিই । এমনকি আমরা বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে ওষুধও নিয়ে থাকি । দেখা যায় রক্তশূন্যতা দূর হয় না । কিন্তু আপনি কি জানেন যে জাম জন্ডিস এবং রক্তশূন্যতা সারাতে পারে? জামে আয়রন থাকায় এটি রক্তশূন্যতা ও জন্ডিস কমাতে সাহায্য করে ।

৫) সংক্রমণ দূর করে

জামে রয়েছে প্রচুর পুষ্টিগুণ । যা সংক্রমণ দূর করতে সক্ষম । জামে উপস্থিত অক্সালিক অ্যাসিড, গ্যালিক অ্যাসিড, ম্যালিক অ্যাসিড সংক্রামক প্রতিরক্ষা তৈরি করে । ফলে যেকোনো ধরনের ইনফেকশন সহজেই দূর হয় ।

৬) হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

আমাদের হার্টকে সুস্থ রাখা জরুরি । কারণ হার্টের স্বাস্থ্য ভালো না থাকলে ভারী কাজে ব্যর্থ হতে হয় । হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে জাম বিশেষ ভূমিকা পালন করে । কারণ জামে রয়েছে অ্যান্থোসায়ানিডিন, অ্যালজিনিক অ্যাসিড, অ্যালজিট্রিন ইত্যাদি যা আমাদের রক্তের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারে । ফলে হার্টকে সুস্থ রাখতে পারে জাম ।

অন্য পোস্ট : পাইলস এর ঘরোয়া চিকিৎসা – ২০২৩

৭) হাড়ের শক্তি বাড়ায়

জাম ভিটামিন সি এবং ক্যালসিয়াম সমৃদ্ধ । যা আমাদের শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে । এছাড়া জামের ক্যালসিয়াম আমাদের হাড়ের মজবুত বাড়াতে পারে । বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে হাড়ের ক্ষয় বেশি হয় । সেজন্য বয়স্কদের খাদ্যতালিকায় জাম ফল যোগ করা উচিত ।

৮) রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে

বিভিন্ন রোগ নিরাময়ের জন্য আমাদের রক্তে শর্করার মাত্রা কমাতে হবে । জাম ফল খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা কমে যায় । জামের অ্যান্টি-ডায়াবেটিক বৈশিষ্ট্যের কারণে শরীরে ইনসুলিন তৈরিতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে । ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা অনেকটাই কমে যায় । একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতিদিন জাম বীজ খেলে রক্তে শর্করার পরিমাণ ৩০% কমে যায় ।

অন্য পোস্ট : জ্বর কমানোর ঘরোয়া উপায় ২০২৩

৯) হজমে সাহায্য করে

জাম আমাদের হজমে গতি বাড়াতে সাহায্য করে । জামে পর্যাপ্ত ফাইবার থাকে যা হজমশক্তির উন্নতি ঘটায় । এছাড়া যাদের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে তাদের জন্য জাম খাওয়া খুবই উপকারী । কারণ জামের ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে । তাই এ ধরনের সমস্যা এড়াতে প্রতিদিন জাম খেতে পারেন ।

১০) দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে

আমাদের সবার দৃষ্টিশক্তি উন্নত করার চেষ্টা করা উচিত ।  কারণ দৃষ্টিশক্তি ভালো না হলে বিভিন্ন জায়গায় বিপদে পড়তে হবে । জাম ফল দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে । কারণ জামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ এবং ভিটামিন সি যা দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটায় । এছাড়া বিশেষ করে যারা রাতকানা রোগে ভোগেন তাদের জন্য জাম খুবই উপকারী । কারণ জামের ভিটামিন এ রাতকানা রোগ সারাতে বিশেষ ভূমিকা পালন করে ।

জাম গাছের ছালের উপকারিতা

জাম গাছের বাকলের উপকারিতা জামের ফলের চেয়ে অনেক বেশি।  এছাড়া জামের ছালে অনেক ঔষধি গুঞ্জন রয়েছে যা জামের ফল থেকে পাওয়া যায় না ।  তাহলে জেনে নেই জাম গাছের বাকলের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত।

  • আমাদের অনেকের মাড়ি থেকে রক্তক্ষরণ হয় । এই সমস্যা দূর করতে আমরা চিকিৎসকের পরামর্শ নিই । এমনকি অনেকে বিভিন্ন ফার্মেসি থেকে বিভিন্ন ওষুধ খাই । তারপরও মাড়ি থেকে রক্ত ​​পড়া বন্ধ হচ্ছে না । কিন্তু আপনি কি জানেন যে জামের ছাল মাড়ি থেকে রক্ত ​​পড়া বন্ধ করার অন্যতম ঘরোয়া উপায়? যা অল্প সময়ের মধ্যে আপনার রক্তপাত বন্ধ করে দেয় । এজন্য নিয়মিত জামের ছাল দিয়ে দাঁত ব্রাশ করতে হবে।
  • যাদের রক্তাক্ত মল আছে তাদের জন্য জাম গাছের বাকল খাওয়া খুবই উপকারী । মলের রক্ত ​​পড়া বন্ধ করতে হলে এক থেকে দুই চামচ জামের ছালের গুঁড়া এক চা চামচ মধুর সঙ্গে মিশিয়ে প্রতিদিন খেতে পারেন । ফলে রক্ত ​​জমাট বেঁধে খুব দ্রুত চলে যাবে ।
  • বিশেষ করে শিশুরা পেটের বিভিন্ন সমস্যায় ভোগে যা খুবই কষ্টকর । কিন্তু জানেন কি জামের ছাল এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারে । এর জন্য আপনাকে প্রথমে একটি পাত্রে এক চা চামচ জামের ছাল দিতে হবে । তারপর সামান্য চিনির সাথে এক চা চামচ ঘি দিন । এবার সেগুলো ভালো করে মিশিয়ে দিনে একবার থেকে দুবার পান করুন । আশা করি পেটের সমস্যা তাড়াতাড়ি চলে যাবে।
  • আমাদের শরীরে প্রায়ই ক্ষত হয় । এই সমস্যার অন্যতম ঘরোয়া উপায় হল জামের ছাল । আক্রান্ত স্থানে জামের ছালের গুঁড়া লাগান । দেখবেন এক সপ্তাহের মধ্যে ক্ষত পুরোপুরি সেরে গেছে।

পরিশেষে

আমি আপনাকে সম্পুর্ণ ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করেছি । আশা করি জামের উপকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পেয়েছেন । আরেকটি বিষয় হল আমাদের webmission24 ওয়েবসাইটে আপনি প্রতিদিন নতুন নতুন পোস্ট পাবেন, প্রতিটি পোস্ট দেখার জন্য অনুরোধ করছি, ধন্যবাদ ।

Similar Posts